Sunday 20 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

টাঙ্গাইলের মধুপুর বনে ৫৫ বছর পর লেকের সংস্কার শুরু

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১২ মার্চ ২০২৬ ১৪:৪৬

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল মধুপুর জীব বৈচিত্র রক্ষা এবং বন্য প্রাণীর পানির সংকট নিরসনে গড়গড়িয়া লেক সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।

লেক ও পুনঃখনন ও সংস্কারের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এদিকে লেক পুনঃখননের কারনে উজানের আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে আশংকা করছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির একটি অংশ। লেকটির সংস্কারের ফলে মধুপুর বনের জীববৈচিত্রে প্রান ফিরে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা গেছে, শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রকল্পের অধিনে গত ৭ ফেব্রুয়ারি মধুপুর জাতীয় উদ্যান রেঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে গড়গড়িয়া লেকের পুনঃখনন কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ। এরপর থেকেই স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি অংশ নানা বিভ্রান্তি ছড়াতে শুরু করে। ফলে লেক সংস্কারের কাজের সময়ে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। বন বিভাগ বিষয়টিকে প্রথম থেকেই বিভ্রান্তিমূলক বলে মনে করছে।

বিজ্ঞাপন

মধুপুর গড়ের ৪৫ হাজার ৫৬৫ দশমিক ১৮ একর বনভুমিতে চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, মুখপোড়া হুনুমান এবং অনেক প্রজাতির পশুপাখির আবাসস্থল। এ সব বন্য পশুপাখির পানির প্রয়োজন নিশ্চিত করতে ১৯৭০ সালের দিকে গড়গড়িয়া লেক খনন করা হয়। এরপর গত প্রায় ৫৫ বছরে লেকটি পুনঃখনন বা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি কেউ। ফলে লেকের অধিকাংশ জায়গা ভরাট হয়ে যায়। শুস্ক পানি শুন্যের কোঠায় নেমে আসে। ফলে বন্যপ্রানী ও পশুপাখি মারাত্মক পানির অভাবে পড়ে। সারাবছর বন্যপ্রানী ও পাখির জন্য পানির নিশ্চয়তা, জলাভুমির ইকোসিস্টেম ও জলজ প্রান সংরক্ষন, শুষ্ক মৌসুমে বনের ভেতরে আগুন লাগলে তা নেভানোর কাজে পানির উৎস তৈরি ও লেকের কাছে গায়রা গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর কৃষিকাজের সেচ সুবিধাসহ নানা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে লেকটির পুনঃখননের উদ্যোগ নেয় বন বিভাগ।

টাঙ্গাইল বন বিভাগ জানায়, লেকটির গভীরতা বাড়ানো হচ্ছে। যাতে সারাবছর বন্যপ্রানী ও পাখি জন্য পানির নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী ও স্থানীয়দের আবাদি জমির যাতে ক্ষতি না হয়, সেজন্য লেক থেকে উত্তোলন করা মাটি বনের কাছে পরিত্যক্ত জমিতে রাখা হচ্ছে। যা স্থানীয়দের আবাদি জমির থেকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি গড়গড়িয়া লেক সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, মধুপুর জাতীয় উদ্যান সহব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি লাল মিয়া ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি। এ বিষয়ে জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানান, লেক থেকে উত্তোলন করা মাটি খুবই সর্তকতার সাথে সরানো হচ্ছে। যাতে স্থানীয়দের আবাদের জমি ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।

লেক পুনঃখননের বিষয়ে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেন, গড়গড়িয়া লেকের উজানে আদিবাসীদের প্রচুর ধানের জমি রয়েছে। লেকের কাছে পানি নিষ্কাশনের জন্য ১৯৭৭ সালে একটি দীর্ঘ একটি নালা খনন করা হয়। যা বর্তমানে অচল অবস্থায় রয়েছে। নালাটি পরিস্কার করা দরকার। তা না হলে আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন জানান, সংস্কার কাজ শেষ হলে গড়গড়িয়া লেক মধুপুর গড়ের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও বন্যপ্রাণী টিকে থাকার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো